রুহুল আমিন রাসেল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ
সম্পাদক। ‘দাদুভাই কনস্ট্রাকশন’- নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের
স্বত্বাধিকারী। গেল কয়েক বছরে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে
জানিয়েছেন তারই এক নিকটাত্মীয়। অথচ পৈতৃক সূত্রে তিনি তেমন কিছুই পাননি।
এরপরও কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন রাসেল? এ প্রশ্নের
অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের
সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের প্রশ্রয় পান রাসেল। এমপি’র অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে
সব প্রকৌশল বিভাগে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। টেন্ডারবাজি, পছন্দের
প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ
সম্পদের মালিক বনে গেছেন কৃষক লীগ এই নেতা।
জানা গেছে, ৫ই আগস্ট
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিনই পালিয়ে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ
সদস্য আব্দুল ওদুদ বিশ্বাস। এখন আলোচনায় ওদুদের অপকর্মের সহযোগীরা। এরমধ্যে
অন্যতম রুহুল আমিন রাসেল।
ওদুদের বিশ্বস্ত এই সহযোগী নামে-বেনামে করেছেন সম্পদ, বাড়ি ও গাড়ি। সব শেষ
বালুমহালও নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। প্রায় ৭ কোটি টাকা দিয়ে পদ্মা নদীর রাণীনগর
বালুমহাল ইজারা নেন। নির্দিষ্ট একটি বালুমহাল ইজারা নিয়ে পদ্মা ও মহানন্দার
বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করেন রাসেল সিন্ডিকেট।
জানা গেছে,
কিছুদিন আগে রহনপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছে ২৬ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি
কিনেছেন রাসেল। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গাড়িটি বিক্রির চেষ্টা করছেন
বলে জানা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে দু’টি বাড়ি, রাজশাহীতে ফ্ল্যাট এবং
প্লট, বরেন্দ্র অঞ্চলে বাগানবাড়ীসহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণে সম্পদ
গড়েছেন।
সম্পদের মূলে টেন্ডার বাণিজ্য:
এলজিইডি ও শিক্ষা প্রকৌশল
বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বহু
প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাব ও নিজে ক্ষতাসীন
দলের নেতা পরিচয়ে প্রকৌশল বিভাগে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাসেল। তিনি
জেলা ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। ফলে নিজে এবং পছন্দমাফিক
ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। কাজ নিয়ে
বিক্রি করে দেয়া এবং কাজ না করেই বিল তুলে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার
বিরুদ্ধে। এছাড়াও এলজিইডি’র আরেক মাফিয়া ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের সঙ্গে
গভীর সখ্যতা রয়েছে তার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল আমিন রাসেল বলেন, সব
টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইন সিস্টেমে। নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া ৭
কোটি টাকা দিয়ে বালুমহাল ইজারা নিয়েছি। অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ সঠিক
নয়। ঠিকাদারি ব্যবসা করে কিছু সম্পদ করেছি, অবৈধ উপায়ে কিছু করিনি।
