চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি টাকা লোপাট

 


বিদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্ধশতাধিক লোকের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উচ্চ বেতনে ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে ইউসুফ আলীর মালিকানাধীন এই ভুয়া এজেন্ট। ইউসুফ পৌর এলাকার ধাপাপাড়ার বাসিন্দা। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত। পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযুক্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে হাতিয়ে নেয়া টাকা আত্মসাতের সব ধরনের চেষ্টা করছেন। প্রতারণার টাকায় শহরের ধাপাপাড়ায় নির্মাণ করছেন বহুতল ভবন। মানবজমিন-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউসুফ আলীর মালিকানাধীন মাহিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামের প্রতিষ্ঠানটির বিদেশে কর্মী পাঠানোর এখতিয়ার নাই। তারপরও নিজেকে এজেন্ট দাবি করে সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে। বিদেশে লোক পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং লাইসেন্স (এলআর) থাকা বাধ্যতামূলক।

তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পাসাপোর্ট সংগ্রহ করে ঢাকার রুবেল নামে ইতালি ও বাংলাদেশের এক দ্বৈত নাগরিকের কাছে দেন। প্রতিটি পাসপোর্টের সঙ্গে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই যুবক চাকরি নিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য ইউসুফকে পাসপোর্ট ও ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও তাদের ইতালি পাঠাতে পারেননি তিনি। তাদের বিমানের ভুয়া টিকিটও দেয়া হয়। পরে ঢাকার রুবেল নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে দু’জনে আরও ২৬ লাখ টাকা দিয়ে ইতালি গেছেন। তবে ইউসুফ তাদের ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেয়নি। পরে তাদের পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালি যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট আর টাকা দেয়া ৪০ জনের বেশি লোক এখনো বিদেশ যেতে পারেনি। পাসপোর্ট ও ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেয়নি তিনি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আসগর আলী জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ তার কাছে আছে। বাদীরা সমাধানের মাধ্যমে টাকা ফেরত চান। তিনি চেষ্টা করছেন যাতে সামাজিকভাবে সমাধান হয়ে যায়। সমাধান না হলে বাদীকে আদালতে মামলার পরামর্শ দেয়া হবে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে পুলিশের সরাসরি আইন প্রয়োগের সুযোগ সীমিত। এ বিষয়ে ইউসুফ আলী জানান, তিনি ১৮ জনকে ইতালি পাঠিয়েছেন। যাদের অভিযোগ দেয়া হয়েছে তিন মাস আগে তাদেরও তিনিই ইতালি পাঠিয়েছেন বলে দাবি করনে। তবে বিদেশ পাঠানো জটিলতা তৈরি হওয়ায় কয়েকজন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। তিনি তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দিবেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Fashion & Beauty

Popular Posts